অন্যান্য

আই এস আছে কি নাই? নিরাপদ সড়ক আইনের বা কী হবে?


সন্ত্রাসী হামলার এক বছর পর হোলি আর্টিজান বেকারিতে নিহতদের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া শোক অনুষ্ঠান।

ছবির কপিরাইট
Getty Images

Image caption

সন্ত্রাসী হামলার এক বছর পর হোলি আর্টিজান বেকারিতে নিহতদের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া শোক অনুষ্ঠান।

তিন বছরেরও আগে ঢাকার হোলি আর্টিজান বেকারিতে যে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল, তার মামলার রায়ে এক আদালত সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। কিন্তু রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গনে একজন আসামীর মাথায় তথাকথিত ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠির টুপি দেখা গেলে, বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

সেই বিতর্ক নিয়েই আজ শুরু করছি, লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

হোলি আর্টিজান হামলার রায় নিয়ে ঐ দিন বিবিসি বাংলার বেশ কিছু প্রতিবেদন শুনলাম এবং পড়লাম। মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামী রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরে যেভাবে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএস-এর প্রতীক প্রকাশ্যে প্রদর্শন করেছে, তাতে আমার মতো অনেককেই বিস্মিত করেছে। আমি মনে করি, আইএসের উপস্থিতিকে সত্য বলে স্বীকার করে তাদের নির্মূলে যদি সরকার শক্ত অবস্থান নিতো, তাহলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হতো।

আপনার সাথে আমি এক জায়গায় একমত মি. রহমান, আইএসর যোগসূত্র যেখানে স্পষ্ট, সেটা আমলে নিয়ে কাজ করলে সরকারের ওপর মানুষের আস্থা বাড়বে।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

হোলি আর্টিজান হামলার পুরো ঘটনাপ্রবাহ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিবর্তন নিয়ে অনেক সময় অনেক বিতর্ক হয়, আমাদের অনুষ্ঠানেও আলোচনা হয়েছে। সেটার জের ধরেই একটি প্রশ্ন করে লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোহাম্মদ সাব্বির হোসেন:

বর্তমানে কিছু রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ব্যক্তিগত কার্যক্রম দলকে যেমন অস্বস্তিতে ফেলেছে তেমনই সাধারণ জনগণের কাছে দলের নেতা-কর্মীদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তাহলে কি বাংলাদেশের রাজনীতিতে অদূর ভবিষ্যতে প্রথাগত রাজনৈতিক ব্যক্তি বা নেতা ছাড়া শিক্ষিত,ব্যবসায়ী, অবসরপ্রাপ্ত আমলা, এবং অন্যান্য অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেখতে পাবো?

ভাল প্রশ্ন করেছেন মি. হোসেন। আমরা কিন্তু ১৯৯১ সালের নির্বাচন থেকেই দেখছি বড় দল দুটো অবসরপ্রাপ্ত আমলা, কূটনীতিক, সামরিক অফিসার, ব্যবসায়ীর মত অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দিতে। এই প্রক্রিয়া আরো ত্বরান্বিত হতে পারে। তবে দলের সাংগঠনিক পদগুলোতে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই আছেন, এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন বলে আমার ধারণা।

ছবির কপিরাইট
MUNIR UZ ZAMAN

Image caption

নিরাপদ সড়কের দাবীতে ঢাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন

একটি বিষয় অনেক মানুষকেই স্পর্শ করে, সেটা হলো নিরাপদ সড়ক। সেজন্য নতুন সড়ক আইন এবং তার প্রয়োগ নিয়ে মানুষের অনেক আগ্রহ।

সে বিষয়ে একটি চিঠি দিয়ে আজ শুরু করা যাক, লিখেছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে হাসান আল-সাইফ:

গত বছর সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের “নিরাপদ সড়ক চাই” আন্দোলনের চাপে সরকার নতুন আইন প্রণয়ন করলো, আবার পরিবহন মালিক-শ্রমিকের ধর্মঘটের চাপে সে আইন প্রয়োগে তারা পিছিয়েও আসলো। তবে সরকার ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ীর ফিটনেসসহ নানা ত্রুটি মেরামতের জন্য পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের আগামী জুন মাস পর্যন্ত যে সময় বেঁধে দিয়েছে, সে সময়ের মধ্যে সব সমস্যা দুর হলেই ভালো। তা না হলে আবার আইন প্রয়োগে বাধা আসবে,আবার ধর্মঘট, আবার জনগণের দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

ভাল কথা বলেছেন মি. আল-সাইফ। আইন প্রণয়নের পর সেটা প্রয়োগ না করলে আইনের ওপর মানুষের আস্থা থাকে না। হয়তো যুক্তিসংগত কারণেই জুন মাস পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে, কিন্তু তারপর আবার পেছালে বিপদ আসবে।

Image caption

বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার দীর্ঘ ইতিহাস: লন্ডনে শেখ মুজিবের সাথে বিবিসির পূর্বাঞ্চলীয় বিভাগের প্রধান মার্ক ডড (সম্ভবত ১৯৭২ সাল)

বাংলাদেশে বিবিসিকে কী ধরণের চাপের মুখে পড়তে হয়? এই প্রশ্ন করে লিখেছেন গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে কায়সার মাহমুদ:

আমারা দেখেছি ২০০২ সালের দিকে তৎকালীন সরকার একুশে টিভি বন্ধ করে দেয়। বর্তমানেও মিডিয়ার উপর সরকারের চাপ আছে বলে আমি মনে করি। আমার প্রশ্ন হল, বিবিসি বাংলা কি কখনো বাংলাদেশ সরকারের হতে চাপ বা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার মুখে পরেছে?

না মি. মাহমুদ, বিবিসি বাংলাকে নিয়ন্ত্রণ করার কোন উদ্যোগ বাংলাদেশ সরকার নেয়নি। সেটা সম্ভবও না, যেহেতু বিবিসি বিদেশী কোম্পানি। আমি বলবো না যে সরকার বা তার কোন দফতরের তরফ থেকে কোন চাপ কোনদিন আসেনি। ইদানীং কিছু কিছু খবরে সরকার অসন্তুষ্ট হয়েছে, সেটাও ঠিক। কিন্তু মূল কথা হচ্ছে, সত্যতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সাংবাদিকতা করতে গেলে কেউ না কেউ অসন্তুষ্ট হবেই।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

মুজিব জন্মশতবার্ষিকী: কোন আলোকে তাঁকে তুলে ধরা হবে?

বিবিসি বাংলার ইউ টিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার নিয়ে মন্তব্য করেছেন ঢাকার ধানমন্ডী থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

হঠাৎ করে বিবিসি নিউজ বাংলার ইউটিউব চ্যানেলে ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরীর সাক্ষাৎকার দেখলাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিবিসি বাংলার সম্পাদক সাবির মুস্তাফা। বাংলাদেশ সরকার জাতির পিতা, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের লক্ষ্যে যে মাস ব্যাপী বিশাল আয়োজন করেছে, সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে এই আয়োজনের আদ্যোপান্ত জানতে পারলাম। এরকম একটি বিশাল আয়োজনের বিষয়ে জানতে পেরে ভাল লাগছে।

আপনাকেও ধন্যবাদ শামীমউদ্দিন শ্যামল। সরকারের অনুষ্ঠানমালায় ঠিক কী থাকবে এবং কারা অংশগ্রহণ করবেন সেগুলো এখনো পরিকল্পনার পর্যায়ে আছে বলে মনে হলো।

ছবির কপিরাইট
Barry Lewis

Image caption

দক্ষিণ আটলান্টিকের মাঝে অ্যাসেনশিয়ন দ্বীপে শর্ট ওয়েভ সম্প্রচারের এরিয়াল।

ডিজিটাল পরিবেশনর বিষয় থেকে এবার যাবো অপর প্রান্তে। রেডিওর জন্য শর্ট ওয়েভের গুরুত্ব নিয়ে লিখেছেন চাঁপাই নবাবগঞ্জের নাচোল থেকে মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান: 

খুব ভাল ও স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠান শোনার জন্য এফ এম বেশি ব্যবহার করি, কিন্তু আজ সকাল থেকেই বিদ্যুৎ নাই,শর্টওয়েভের আশ্রয় নিলাম। ৯৫৬০ কিলোহার্টসে আপনাদের বাংলা অনুষ্ঠান খুব পরিষ্কার শোনা গেল অথচ আপনারা কোন মিটার ব্যান্ডে অনুষ্ঠান শোনা যাচ্ছে তা বলেন না, শুধু এফ এম-এর কথা বলেন। আমার অনুরোধ শর্টওয়েভে মিটার ব্যান্ডের কথা বলবেন।

আপনি শর্টওয়েভে অনুষ্ঠান পরিষ্কার শুনতে পেয়েছেন জেনে খুব ভাল লাগলো মি. মান্নান। তবে একথা বলে রাখা দরকার যে, শর্ট ওয়েভে সম্প্রচার ধীরে ধীরে গুটিয়ে ফেলা হচ্ছে। আগামী বছরই ভারত এবং পাকিস্তানে শর্টওয়েভে বিবিসির সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যাবে। বাংলাদেশে আপাতত থাকবে তবে কতদিন, তা নিশ্চিত করে বলতে পারবো না।

আমাদের ফোন-ইন অনুষ্ঠানে লিঙ্গ বৈষম্যের অভিযোগ এনে লিখেছেন পঞ্চগড়ের রাধানগর থেকে মোহাম্মদ মকবুল হোসেন:

গত ২৪শে নভেম্বর সান্ধ্য-কালীন রেডিও অনুষ্ঠানে বিবিসির পক্ষপাতিত্ব লক্ষ্য করলাম। ফোন-ইন অনুষ্ঠানে পুরো সময় জুড়ে শুধু সর্বশেষ একজন পুরুষ অংশগ্রহণকারী ব্যতীত মহিলাদের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। বিবিসির কাছে আমার প্রশ্ন, ফোন-ইন অনুষ্ঠানে কি কোন পুরুষ অংশগ্রহণকারী ছিলনা? না থাকলে অন্য কথা, যদি থেকেই থাকে তাহলে কেন এই বৈষম্য?

আমার তো মনে হয় আপনিও পক্ষপাতিত্ব করছেন মি. হোসেন। কারণ বছরের ৫২ সপ্তাহের ৫০টিতেই যখন অধিকাংশ কলার পুরুষ হয়, তখন আপনি সেটাতে কোন সমস্যা দেখেন না, নারী নাই কেন, সে প্রশ্ন করেন না। অথচ দুই-একটি অনুষ্ঠানে নারীদের প্রাধান্য দেয়াতেই আপনি আপত্তি তুলছেন। আসল কথা হচ্ছে, আমরা অনুষ্ঠানে নারী-পুরুষের মধ্যে সমতা আনার চেষ্টা করছি। কিন্তু পুরুষদের সংখ্যা যেহেতু ইতোমধ্যেই অনেক অনেক বেশি, তাই কিছু কিছু ফোন-ইনে নারীদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। সেটাকে বৈষম্য বলতে আমি নারাজ।

গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে লিখেছেন রাজগঞ্জ থেকে ইলতুতমিশ:

বিবিসি বাংলার ফোন-ইন প্রোগ্রামে যে শ্রোতারা অংশগ্রহণ করে, তাদের পরিচিতি তথ্য বিবিসি কতটা গোপন রাখে? ধরুন, কোন এলাকা থেকে যদি কেউ শুধু তার নামটা ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী বা সরকারের কোন বিষয় নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে বক্তব্য দেয় এবং সরকার সেই ব্যক্তির তথ্য বিবিসির কাছে চায়, তাহলে বিবিসি তখন কি করবে? বিবিসি যেহেতু বাংলাদেশে তার প্রোগ্রাম চালাচ্ছে তাহলে সরকারের কাছে কি তারা তথ্য দিতে বাধ্য?

আমাদের অনুষ্ঠানে যারা অংশ গ্রহণ করেন, সেটা ফোন-ইন হোক বা কোন প্রতিবেদনে হোক বা সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে হোক, তাদের নিরাপত্তাকে আমরা অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি। কেউ যদি নিজের পরিচয় গোপন রাখতে চায় এবং আমরা যতি এই অনুরোধ যুক্তিসংগত মনে করি তাহলে তার পরিচয় কাউকে দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এখানে আইনগত বাধ্যবাধকতার প্রশ্ন উঠলে সে বিষয়ে বিবিসির আইনজীবীরা আমাদের পরামর্শ দেবে।

সম্প্রতি ব্রিটেনে পরিবহনে একজন মুসলিম নারী এক ইহুদি পরিবারের পক্ষ নিয়ে প্রতিবাদ করলে সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। আমাদের ওয়েবসাইটে প্রতিবেদনটি পড়ে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মাহবুবা ফেরদৌসি হ্যাপি:

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, লন্ডনের এক চলন্ত ট্রেনে এক যুবক যখন এক ইহুদি পরিবারের মুখের সামনে তাদের ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর কথা বলছিলেন, তখন আসমা শুয়েখ নামে এক মুসলিম নারী প্রতিবাদ করতে এগিয়ে এসেছিলেন। পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোর পথে ঘাটে বিভিন্ন জায়গায় প্রায়ই হেইট ক্রাইম বা ঘৃণাসূচক অপরাধের খবর গণমাধ্যমে আসছে।

এ ধরণের ধৃষ্টতাপূর্ণ ঘটনা নারী ও শিশুদের জন্য ভীতিকর ও বিব্রতকর। সেক্ষেত্রে সাহস করে প্রতিবাদ করাটা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও অনেকে করে বসে, সেক্ষেত্রে আসমা শুয়েখ যেটা করেছে, সেটা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার এবং এটা নিশ্চয়ই অন্যদেরকে উৎসাহিত করবে।

এ’ধরণের অপরাধ ইদানিং অনেক হচ্ছে মিস ফেরদৌসি, তবে এই ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে প্রতিবাদ করার জন্য অনেকে এগিয়েও আসছেন।

আমাদের অনুষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চেয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

বিবিসি বাংলার রাতের অনুষ্ঠান পরিক্রমা আবার ফিরে আসছে, এটি বিবিসি বাংলার শ্রোতাদের জন্য নিঃসন্দেহে একটি ভালো খবর। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, পরিক্রমা কি আগের ফরম্যাটেই থাকবে, না কি নতুন করে সাজানো হবে? আর পুরানো ফিচার গুলো পরিক্রমায় আবারও ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা রয়েছে কি না?

ফরম্যাটে খুব একটা পরিবর্তন আসবে না মি. সরদার তবে কনটেন্ট-এর দিক থেকে নতুনত্ব অবশ্য আনা হবে। আগের ধারণকৃত ফিচারগুলো সব থাকবে না। বিশেষ প্রতিবেদন অবশ্যই থাকবে। তার সাথে ফোন-ইন যোগ করা হবে, এবং সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সরাসরি আলোচনা থাকবে। আমরা প্রীতিভাজনেষু রাখার পক্ষে তবে সেটায় ভিন্ন রূপ দেবার চেষ্টা করা হবে।

পরের চিঠি লিখেছেন ঢাকার মহাখালী থেকে কাজী সারোয়ার হোসাইন:

ছোট খাটো ভুল সব খবরেই থাকে, কিন্তু বিবিসি বাংলাতে যেসব ভুল নিয়ে অনেক শ্রোতা অভিযোগ করেন, সেই সব ভুল আমার কানে বাঁধলেও সেগুলা নিয়ে কখনো অভিযোগ করার চিন্তা মাথায় আসেনি। বরং বিবিসি বাংলা যেসব সঠিক খবর প্রচার করে সেটার জন্য ধন্যবাদ জানাতেই আজ প্রথম বিবিসি বাংলাকে আমার লেখা।আমার প্রশ্ন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর নাম মমতা ব্যানার্জি নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? কোনটি ঠিক?

দুটাই সঠিক মি. হোসাইন। বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা নাম কিন্তু আমি যতদূর জানি, ব্রিটিশরা নামটি সহজ করে উচ্চারণ করার জন্য ব্যানার্জি শব্দটির প্রবর্তন করে। আর বিবিসি বাংলাকে ধন্যবাদ দেবার প্রয়োজন নেই, সঠিক খবর দেয়াই আমাদের কাজ। আমাদের অনুষ্ঠান শোনার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

প্রীতিভাজনেষু নিয়ে বিতর্কে আরেকটি দিক তুলে ধরে লিখেছেন ঢাকার মহাখালী থেকে মোহাম্মদ সালেহ আকরাম:

প্রীতিভাজনেষুতে চিঠি-পত্র না পাওয়ার জন্য বিবিসিকেই দায় নিতে হবে। অনেকে লিখতে চাইলেও লিখতে পারে না, ঠিকানার অভাবে। স্বয়ং প্রীতিভাজনেষুতেই বলা হয়না কোথায় লিখবে বা কীভাবে লিখবে। আমি নিজেও অনেক খুঁজে ” বিবিসি বাংলা বিভাগ পোস্ট বক্স ২০৬০, ঢাকা ১০০০ বাংলাদেশ ” এই ঠিকানাটি বের করেছি, যা সাধারণ শ্রোতাদের জন্য সহজ নয়। তাহলে কি ধরে নিব, প্রীতিভাজনেষুকে শর্ট ওয়েভের মত একই পাল্লায় পরিমাপ করছে বিবিসি?

আমরা কিন্তু কাউকে দায়ী করার কথা বলছি না মি. আকরাম। সময় পাল্টে গেছে, চিঠি লেখার মত সময় সবার আর নেই। আমাদের পোস্ট বক্স অনেক দিন হলো বন্ধ হয়ে গেছে মি. আকরাম, সেজন্য সেই ঠিকানা আর দেয়া হয়না। ইমেইল ঠিকানা নানা সময়ে দেয়া হয়, কাজেই যারা আমাদের অনুষ্ঠান দেখেন বা শোনেন, তারা কোন না কোন সময় জানতে পারেন।

কাকতলীয়ভাবে একদম মি. আকরামের সূত্র ধরেই লিখেছেন নোয়াখালী থেকে অরবিন্দ দাস কাব্য:

বিবিসি বাংলায় কখনো চিঠি লেখার কথা ভাবিনি। কিন্তু সমস্যা হলো, এখন আর রেডিও কিনতে পাওয়া যায়না বললেই চলে। এসব নিয়ে আমার কিছু লেখার ছিল। কিন্তু কোন ঠিকানায় চিঠি পাঠাবো সেটা কোথায় লিখে রেখেছি খুঁজে পাচ্ছিনা। দয়া করে আপনাদের কাছে লেখার ঠিকানাসহ নিয়মটা যদি জানালে উপকৃত হতাম।

আমাদের চিঠি লেখার কোন নিয়ম নেই মি. দাস। আপনি যেভাবে এই ইমেইলটি লিখেছেন, ঠিক সেভাবেই লিখবেন, আর যে ইমেইল ঠিকানায় পাঠিয়েছেন, সেখানেই পাঠাবেন।

খুবই ছোট একটি মেইল পাঠিয়েছেন হাসান বশীর খান:

ধন্যবাদ বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য। আমি আপনাদের অনেক পুরাতন শ্রোতা। কিন্তু কোনদিন লেখা হয়নি, তাই আজকে লিখতে বসলাম।

লিখতে বসলেন ঠিকই, কিন্তু কেন যেন মনে হচ্ছে শেষ করার আগেই পাঠিয়ে দিয়েছেন। যাই হোক, লেখার জন্য ধন্যবাদ।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক ..

রবি শঙ্কর শুর, বেহালা কলকাতা।

পলাশ চন্দ্র রায়, মাড়েয়া, পঞ্চগড়।

মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম,লালমাই, কুমিল্লা।

নাজমুল হক,বরিশাল, বন্দর।

মোহাম্মদ মোবারক হোসাইন, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।

মনজুর আলম, ঝালকাঠি।

আহসান হাবিব রাজু,সুকানদিঘী, লালমনিরহাট।

এস এম আব্দুস সামাদ, উলিপুর, কুড়িগ্রাম।

মাহবুব রহমান মামুন, দারিয়াপুর, গাইবান্ধা।

শাহিন তালুকদার, মৌকরন, পটুয়াখালী।

জহিন মুমতাহিনাহ, লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা।

মাহবুবা ফেরদৌসি হ্যাপি, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা। 



Source link

Comment here